Tuesday, May 14, 2013

 স্বাস্থ্যটিপস: গরমে জ্ঞান হারালে কি করবেন?


যানবাহনগুলো তার ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি মানুষ নিয়ে ছুটছে গন্তব্যে। ফিরে আসা মানুষগুলোর দুর্ভোগ বাড়াতে যুক্ত হয়েছে গরম। অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে না পেরে কেউ কেউ ঢলে পড়ছে সহযাত্রীর গায়ে। সহযাত্রীও কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কী করবেন তিনি? এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার প্রস্তুতিটা নিয়ে নিন এখনই। প্রচণ্ড গরমে সাধারণত চার ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।
১. হিট সিনকোপ
২. হিট ক্রাম্প
৩. হিট এক্সজশন
৪. হিট স্ট্রোক।
হিট সিনকোপ: অত্যধিক গরমে কাজ করার জন্য রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে রোগীকে বিছানায় শুইয়ে দিতে হবে। প্রচুর পানি পান করাতে হবে।
হিট ক্রাম্প: অতিরিক্ত গরমে ঘামের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ লবণ বের হয়ে যাওয়ার ফলে হাত-পায়ের মাংসপেশিতে বেদনাদায়ক সংকোচন হয়। রোগীকে ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে। পানিতে এক গ্রাম খাদ্যলবণ মিশিয়ে আধ ঘণ্টা পর পর রোগীকে খাওয়াতে হবে। শিরাপথে নরমাল স্যালাইনও দেওয়া যেতে পারে।
হিট এক্সজশন: দীর্ঘ সময় ধরে রোদে থাকার জন্য হয়। রোগী পিপাসার্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া মাংসপেশির অসামঞ্জস্য সংকোচন ঘটে। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে রোগীকে ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে। প্রচুর পানি পান করাতে হবে। রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে হাইপারটনিক স্যালাইন দিতে হবে।
হিট স্ট্রোক: এটি সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা। এতে রোগী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারাও যেতে পারে। রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাপমাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায় এবং শরীর থেকে ঘাম ঝরা বন্ধ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে শরীরের জামাকাপড় খুলে দিতে হবে। রোগীকে ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে এবং বরফ গলা পানি দিয়ে শরীর স্পঞ্জ করে দিতে হবে।
মূল লেখক— সিদ্ধার্থ মজুমদার, প্রথম আলো, ১৫-০৯-১০
Read More

ত্বকে সংক্রমণ হলেই অ্যানথ্রাক্স নয়!

অ্যানথ্রাক্স রোগে মানুষের ত্বকে সংক্রমণ হয়। তবে দেখতে একই রকম হলেও এ সংক্রমণ আরও কিছু কারণে হতে পারে। যেমন_ ইমপিটিগো, ফারনকল, ফিক্সড ড্রাগ র্যাশ এবং ইকথিমা নামক ত্বকের রোগে। আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, অ্যানথ্রাক্সের কারণে সংক্রমণে ত্বকের ক্ষতস্থানে প্রথমে ফুসকুড়ি হয় পরে ত্বকের মাঝে কালো আলকাতরার মতো হয়। যেন সিগারেটের ধোঁয়ায় ত্বক পুড়ে গেছে। এজন্যই অ্যানথ্রাক্স শব্দটি গ্রিক অ্যানথ্রাকিস থেকে এসেছে, যার অর্থ আলকাতরার মতো কালো। এ ক্ষতস্থানের চারপাশ ফুলা থাকে এতে কোন ব্যথা থাকে না। ত্বকে সংক্রমণ হলে চিন্তার মোটেই কারণ নেই। নির্দিষ্ট মেয়াদে এন্টিবায়োটিক যেমন_ পেনিসিলিন বা ডক্সিসাইক্লিন বা সিপ্রোফ্লক্সসিন খেলে এ সংক্রমণ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। ত্বকে সংক্রমণ হলে চিকিৎসাবিহীন থাকলে শতকরা ২ জনের মৃত্যু হতে পারে।
ইমপিটিগো ত্বকের রোগটি শিশুদের প্রধানত মুখে হয়। এছাড়া হাত-পায়েও হতে পারে। এতে ত্বকে প্রথমে ফোস্কা পরে, পরবর্তিতে ফোস্কা ফেটে গিয়ে ত্বকের মাঝখানে একটু গর্ত হয়ে কালচে বর্ণ ধারণ করে।
ফারনকল লোমকূপের গোড়ায় হয়। এতে হলুদ বর্ণের ফুসকুড়ি হয় এবং শুকালে কালো বর্ণ ধারণ করে।
ফিক্সড ড্রাগ রিঅ্যাকশন সাধারণত সালফার জাতীয় ওষুধ গ্রহণের কারণে হতে পারে। এছাড়া ডক্সিসাইক্লিন, প্যারাসিটামল ইত্যাদি ওষুধের কারণেও হতে পারে। এতে ত্বক লালচে হয়ে যায়, যাকে ইরাইথেমা বলে এবং বেশিমাত্রায় হলে ত্বকে ফোস্কা পড়ে।
এছাড়া ইকথিমা নামক ত্বকের রোগেও ত্বক কালচে বর্ণ ধারণ করে।
অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস খেলেই কেবল মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। এতে রক্তযুক্ত পায়খানা বা বমি এবং মুখে বা অন্ত্রে ঘা হতে পারে। এজন্য গরু অসুস্থ সন্দেহ হলে প্রাণী চিকিৎসককে দেখিয়ে ১০-২০ সিসি পটাশিয়াম ক্লোরাইড ইনজেকশন দিয়ে গরুকে মেরে ফেলতে হবে। মৃত গরু পলিথিনে পেঁচিয়ে ৬ ফুট মাটির নিচে পুঁতে রাখতে হবে, ফলে অক্সিজেনের অভাবে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু বা স্পোর বেঁচে থাকতে পারে না।
মনে রাখবেন চারপায়ী জন্তুদের মধ্যে শূকর এবং পাখির মধ্যে শকুনের কখনও অ্যানথ্রাক্স হয় না। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস সিদ্ধ করলেও জীবাণুমুক্ত হয় না।
মূল লেখকঃ অধ্যাপক ডা. এম ইউ কবীর চৌধুরী, ত্বক ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ। যুগান্তর ২৫-০৯-১০
Read More

অ্যানথ্রাক্স-এর রকম ফেরঃ


অ্যানথ্রাক্স জীবাণু মানুষের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত করতে পারে এবং আক্রান্ত অঙ্গ অনুযায়ী রোগের ধরনও বিভিন্ন রকম হয়। যেমন :
ত্বকের (cuteneous) অ্যানথ্রাক্স : অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু অথবা এনথ্রাক্স স্পোর দ্বারা দূষিত পশুর পশম, চুল বা চামড়ার সংস্পর্শে এলে অ্যানথ্রাক্স স্পোর মানুষের ত্বকের অতিসূক্ষ্ম ক্ষত দিয়েও প্রবেশ করতে পারে। এ অবস্থায় সাধারণত ১ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ত্বকের ক্ষত তৈরি হয়। ক্ষত দুই হাতে মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ঘাড় এবং মাথাও আক্রান্ত হতে পারে। ত্বকে ধীরে ধীরে ঘা তৈরি হয় যা ২-৩ সেমি আয়তনের হয়ে থাকে এবং ঘা এর চারদিকের ত্বক একটু উঁচু হয়ে থাকে। ক্ষতে চুলকানি থাকে তবে ব্যথা থাকে না।
শ্বসনতন্ত্রির (inhalational) অ্যানথ্রাক্স : অ্যানথ্রাক্স জীবাণুর স্পোর যদি শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। শুরুর দিকে হালকা জ্বর, খুশখুশে কাশি এবং বুকে অল্প ব্যথা হয়। পরবর্তীতে তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট, শরীর নীল হয়ে যাওয়া, শরীর বেশি ঘেমে যাওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, বুকে ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।

মুখবিবরীয় (oropharyngeal) অ্যানথ্রাক্স : অ্যানথ্রাক্স স্পোর খেলে এ অবস্থা দেখা দেয়। গলাব্যথা, খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া এর লক্ষণ। এক্ষেত্রে মুখের তালু বা মুখবিবরে (pharynx) ক্ষত দেখা দেয়।
পরিপাকতন্ত্রের (Intestinal) অ্যানথ্রাক্স : এটাও অ্যানথ্রাক্স স্পোর খেলে দেখা দেয়। বমি অথবা বমিবমি ভাব, অস্বস্তি, পেটব্যথা, রক্তবমি, বারবার রক্তযুক্ত পায়খানা হওয়ার সঙ্গে জ্বর হয়।
রোগের পরিণতি : বেশির ভাগ এনথ্রাক্স ত্বকের এনথ্রাক্স, যা চিকিৎসা করলে, এমনকি চিকিৎসা না করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভালো হয়ে যায়। অন্যান্য ধরনের এনথ্রাক্সের পরিণতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খারাপ। এর মধ্যে সেপটিসেমিক এনথ্রাক্স এবং অ্যানথ্রাক্স মেনিনজাইটিস এ মৃত্যুহার খুবই বেশি। শ্বসনতন্ত্রের অ্যানথ্রাক্স চিকিৎসা করলেও মৃত্যুহার প্রায় ৪৫%। পরিপাকতন্ত্রের অ্যানথ্রাক্স নির্ণয় করা খুব কঠিন এবং এতে মৃত্যহার ২০-৬০%।
রোগ নির্ণয় : ত্বকের অ্যানথ্রাক্স রোগীর গবাদিপশুর সংস্পর্শে আসার ইতিহাস এবং ক্ষতের ধরন দেখেই বোঝা যায়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্ষত থেকে রস নিয়ে নির্দিষ্ট উপায়ে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পরীক্ষা করলে জীবাণু দেখা যায়। শ্বাসতন্ত্রের রোগ সন্দেহ করলে বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান করা হয়। সেপটিসেমিক অ্যানথ্রাক্স নির্ণয় করার জন্য ব্লাড কালচার করা হয়। মেইনজাইটিস সন্দেহ হলে লাম্বার পাংকচার করে সেরিব্রোস্পাইনাল রস পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া ELISA নামক পরীক্ষাও এ রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
চিকিৎসা : ত্বকের সংক্রমণের ক্ষেত্রে রোগীকে বহিঃবিভাগেই চিকিৎসা দেওয়া যায়। অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হবে। বিভিন্ন রকমের এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে অ্যানথ্রাক্স রোগের চিকিৎসায় পেনিসিলিনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। কুইনোলন গ্রুপের এন্টিবায়োটিক (যেমন : সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, গ্যাটিফ্লক্সাসিন), ডক্সিসাইক্লিন, এমক্সিসিলিন, এম্পিসিলিন, ক্লোরামফেনিকল ইত্যাদি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
(সংক্ষেপিত) মূলঃ ডা. এবিএম. কামরুল হাসান, সহকারী সার্জন, পাইস্কা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ধনবাড়ী, টাংগাইল, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৮-০৯-১০
Read More

গর্ভকালীন সময়ে যেসব ওষুধ সেবনে সাবধাণ থাকবেন


একজন নারী যখন গর্ভবতী হন, তখন তাঁর দেহমনে বিরাট একটা পরিবর্তন সূচিত হয়। কারণ, তাঁর ভেতরে বেড়ে উঠছে অনাগত একটি জীবন। তাই গর্ভবতী নারীকে সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। কারণ, সামান্য অসতর্কতার ফলে তাঁর কিংবা শিশুটির অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা উচিত ওষুধ সেবনে। বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে কোনো ওষুধই পারতপক্ষে খাওয়া উচিত নয়। এমনকি ভিটামিন বা আয়রনও নয়। নিচে আমরা কিছু ওষুধের তালিকা তুলে দিলাম, যা গর্ভাবস্থায় কোনো পর্যায়েই খাওয়া উচিত নয়।
অ্যাসপিরিন (ব্যথানাশক): এটি খেলে শিশুর (ডিএফএন, ইকোস্পিরিন) শারীরিক গঠনে অসুবিধা হতে পারে। এটি কার্ভা ইত্যাদি নামে বাজারে পওয়া যায়।
এন্ডোমিথাসিন: আইমেট, ইন্ডোমেট ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়। (বাতের জন্য) শিশুর শারীরিক গঠনে অসুবিধা হতে পারে।
ক্লোরোকুইন (ম্যালেরিয়ার ওষুধ): গর্ভাবস্থায় প্রথম দিকে ব্যবহারে শিশু বধির ও বোবা হতে পারে।
ক্লোরামফেনিকল (টাইফয়েডের ওষুধ): শিশুর মৃত্যু ঘটায়।
সালফোনামাইড (ডায়াবেটিসের ওষুধ): এটি খেলে শিশুর জন্ডিস হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় মায়ের ডায়াবেটিস থাকলে ইনসুলিন ব্যবহার করা শ্রেয়।
টেট্রাসাইক্লিন: এটি শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠনে ক্ষতি করে।
কর্টিসোন/প্রেডনিসোলন (স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ): মৃত শিশু জন্ম নেবে।
ইস্ট্রোজেন/স্টিলবেস্টরন (হরমোন-জাতীয় ওষুধ): মেয়েশিশু
হলে ভবিষ্যতে যৌনাঙ্গে ক্যানসার হতে পারে।
জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল): ভ্রূণের গঠন বিকৃতি করবে।
ভিটামিন-এ: বেশি মাত্রায় ব্যবহারে শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
কৃমিনাশক: (যেমন—অ্যালবেন, অ্যালমক্স, আরমক্স ইত্যাদি) গর্ভপাত ঘটানোর আশঙ্কা থাকে।
মেট্রনিডাজল: (যেমন—ফ্লাজিল, ফিলমেট, অ্যামোডিস ইত্যাদি) আমাশয়ের ওষুধ, গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস ব্যবহারে শিশুর গঠনে বিকৃতি দেখা দিতে পারে।
ডায়াজিপাম: (যেমন—সেডিল, রিলাক্সেন ইত্যাদি) ঘুমের ওষুধ, এটি খেলে শিশুর মাংসপেশির দৃঢ়তা থাকবে না। মায়ের স্তন চুষতে পারবে না।
প্রত্যেক গর্ভবতী মা ওষুধের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন; যা আপনার ভবিষ্যৎ সন্তানের মঙ্গল আনবে।
মূল লেখকঃ এস এম নওশের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। | প্রথম আলো, ৬-১০-২০১০
Read More

স্মৃতিশক্তি উন্নয়নের কিছু টিপস

স্মৃতিশক্তি তৈরি হয় এক জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যাতে জড়িত থাকে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ ও বিভিন্ন যোগাযোগ-প্রক্রিয়া। স্মৃতিশক্তি সাধারণত দুই ধরনের—
১) স্বল্পস্থায়ী স্মৃতিশক্তি ও
২) দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিশক্তি।
১. স্বল্পস্থায়ী স্মৃতিশক্তি: যখন মস্তিষ্ক তথ্য ধরে রাখে স্বল্প সময়ের জন্য অর্থাৎ কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটের জন্য, তাকে স্বল্পস্থায়ী স্মৃতিশক্তি বলে।
২. দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিশক্তি: মস্তিষ্ক যখন উদ্যমের মাধ্যমে ক্রিয়া করে, হতে পারে সেটি সজ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে এবং যা নিজের কাছে খুবই অর্থবহ, সেগুলোই দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিশক্তির রূপ নেয়।
স্মৃতিশক্তি উন্নয়নের কিছু টিপস
মস্তিষ্কের ব্যায়াম করুন: মাংসপেশির শক্তির মতো স্মৃতিশক্তিও ‘ব্যবহার করুন অথবা হারান’-এ নীতিতে চলে। আপনি যত মস্তিষ্কের ব্যবহার করবেন, আপনার স্মৃতিশক্তিও তত ধারালো হবে। ‘নিউরোবিক’ ব্যায়াম যেমন—চোখ বন্ধ করে গোসল করা বা ড্রেসআপ করা, নতুন খেলা শেখা, খবরের কাগজে নতুন নতুন পাজল বা ক্রসওয়ার্ড চর্চা করা, সম্ভব হলে প্রতিদিনই।
মনোযোগ দিন: আপনার স্মৃতিতে ধরে রাখতে হলে বিষয়টি মস্তিষ্কে লেখা হতে হবে আর যদি যথেষ্ট মনোযোগ না দেন, মস্তিষ্কে লেখার কাজটি হবে না। মস্তিষ্কের যথাযথ স্থানে একটি তথ্যেও প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় আট সেকেন্ড সময় লাগে। তাই বহু কর্ম একসঙ্গে করতে গেলে মনোযোগ নষ্ট হয়, এটি পরিহার করতে হবে।

আপনার শেখার ধরন বুঝুন এবং সেভাবে শিখুন: অধিকাংশ মানুষ দেখে শেখে, তারা উত্তমভাবে শেখে পড়ে পড়ে অথবা যা দেখার তা দেখে দেখে; কিন্তু কেউ কেউ আছে, তারা ভালো শেখে শুনে শুনে, যদি তারা ক্লাসের লেকচার অডিও বা ভিডিও রেকর্ড করে বারবার শোনে বা দেখে, তাহলে ভালো মনে রাখতে পারে।

যত বেশি সেন্স ব্যবহার করা যায় ব্যবহার করুন: আপনি দেখে দেখে শেখেন ভালো, শব্দ করে পড়ুন, তাতে আপনার আরও একটি সেন্স শেখার কাজে ব্যবহূত হচ্ছে। এ ছাড়া শব্দ করে পড়াটা যদি ছন্দ হয়, তাহলে আরও ভালো। প্রতিটি তথ্য তার রং, আকার, গঠন ও গন্ধ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন। পড়ার পর হাতে লিখলে তা স্মৃতিশক্তিতে গভীরভাবে প্রোথিত হয়। নতুন তথ্যকে আপনার পরিচিত কিছুর সঙ্গে তুলনা করুন।
তথ্যকে সংগঠিত করুন: বিষয়গুলো লিখুন, জটিল বিষয়গুলোর নোট নিন এবং পরে ক্যাটাগরি অনুযায়ীপুনর্বিন্যাস করুন।

চেষ্টা করুন এবং ব্যাখ্যা বের করুন: অধিকতর জটিল বিষয়গুলোর মৌলিক ধারণার ওপর জোর দিন, বিচ্ছিন্নভাবে মুখস্থ করার চেষ্টা করবেন না। জটিল বিষয়টি অন্যকে নিজের ভাষায় বোঝানোর ক্ষমতা অর্জন করুন। বারবার তথ্যের রিহার্সেল করুন এবং অতিরিক্ত শিখুন, যেদিন বিষয়টি শিখলেন, সেটি আবার ঝালাই করুন এবং মাঝেমধ্যে বিরতি দিয়ে আবার ঝালাই করুন।
জমিয়ে না রেখে নিয়মিত পড়াশোনা করুন: গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ছাত্র নিয়মিত পড়াশোনা করে, তারা ভালো মনে রাখতে পারে।
প্রাত্যহিক পড়ার রুটিনে পরিবর্তন আনুন: মাঝেমধ্যে প্রাত্যহিক রুটিন পরিবর্তন স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ ছাড়া রাতে পড়াশোনা করে পরদিন সকালে বিষয়টি রিভিউ করুন।
স্মৃতিশক্তি-সহায়ক পদ্ধতি অবলম্বন করুন: এ পদ্ধতিতে কোনো বস্তু মনে রাখার জন্য একটি সূত্র (ক্লু) হিসেবে কাজ করে। যেমন—ছবি, বাক্য বা শব্দ। ছড়া বা গানের আকারেও কোনো বিষয়বস্তু মনে রাখা যায়। কৌতুকের উদ্রেক করে (জোকস) এমন সব বিষয়ের মাধ্যমেও কঠিন বিষয়বস্তু মনে রাখা যেতে পারে।
স্বাস্থ্যবান্ধব অভ্যাসগুলো লালন করুন
ক) নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: ব্যায়াম মস্তিষ্কে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ায়, বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায়। যেগুলো স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
খ) ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করুন: কর্টিসল (একটি স্ট্রেস হরমোন) মস্তিষ্কের হিপপোক্যাম্পাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যদি স্ট্রেস দীর্ঘস্থায়ী হয়। স্ট্রেস মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটায়।
গ) ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন: স্মৃতিশক্তি সংহত করতে ঘুম অত্যাবশ্যক। ঘুমের সমস্যা যেমন—‘ইনসোমনিয়া’ আপনাকে ক্লান্ত রাখবে এবং দিনের বেলায় আপনার মনঃসংযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে।
ঘ) ধূমপান থেকে বিরত থাকুন: ধূমপানে মস্তিষ্কে স্ট্রোক হয়ে স্মৃতিহারা হতে পারেন এবং ধমনিকে সরু করে মস্তিষ্কের অক্সিজেন-প্রবাহ কমিয়ে দিয়ে স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দিতে পারে।
(৫) পুষ্টি ও স্মৃতিশক্তি: ফল, শাকসবজি, আবরণীসমেত দানাজাতীয় শস্য ও স্বাস্থ্যবান্ধব স্নেহজাতীয় (শস্যদানার তেল, মাছের তেল) খাদ্যে অনেক স্বাস্থ্য উপকারী গুণ আছে। পাশাপাশি এগুলো স্মৃতিশক্তির উন্নয়ন ঘটায়। নিচে কিছু স্মৃতিশক্তি-সহায়ক খাদ্য-উপাদান দেওয়া হলো—ভিটামিন বি-৬, বি-১২ এবং ফলিক এসিড আছে পালংশাক ও গাঢ় সবুজ শাক, ব্রকলি, অ্যাসপারাগাস, স্ট্রবেরি, বাঙ্গি, তরমুজ, শিমের কালো বিচি এবং অন্যান্য ডালজাতীয় শস্যদানা, টকজাতীয় ফল ও সয়াবিনে।
অ্যান্টি অক্সিড্যান্টসমূহ আছে জাম, মিষ্টিআলু, লাল টমেটো, পালংশাক, ব্রকলি, সবুজ চা, বাদাম ও বিচি, টকজাতীয় ফল এবং কলিজায়। তাই বিভিন্ন ধরনের রঙিন শাকসবজি ও ফল খান এবং সঙ্গে উদ্ভিদজাত তেল দিয়ে তরকারি রান্না করে সেটা খান। প্রাণিজ তেল আপনার ধমনি সরু ও বন্ধ করে দিতে পারে, এগুলো পরিহার করলে তবেই মস্তিষ্ক আপনাকে ধন্যবাদ দেবে।
মূল লেখকঃ মো. ইফতেখার হাসান খান ফ্যামিলি মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ | প্রথম আলো, ০৬-১০-২০১০
Read More

এনার্জি ড্রিংকস অ্যান্ড ইয়ুথ: এ ডেঞ্জারাস মিক্স


ইদানীং তরুণ বয়সের ভোক্তাদের মধ্যে এনার্জি ড্রিংক বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। চতুর বিপণন ও বিজ্ঞাপন এসবের মূলে। পানীয় শিল্পের একটি দ্রুত প্রসারমাণ অংশের প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়াচ্ছে এনার্জি ড্রিংক। ১৪০টি দেশে ২০০ ব্র্যান্ডের এনার্জি ড্রিংক তৈরি হচ্ছে এবং বিশ্বের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী তরুণের ৩১ শতাংশ নিয়মিত এনার্জি ড্রিংক গ্রহণ করে বলে জানা যায় (সূত্র: সাইমন এম মেশার জে: অ্যালকোহল, এনার্জি ড্রিংকস অ্যান্ড ইয়ুথ: এ ডেঞ্জারাস মিক্স: ক্যালিফোর্নিয়া; মেন ইনস্টিটিউট ২০০৭)।
অন্যান্য কোমল পানীয় ও স্পোর্টস ড্রিংকস থেকে এনার্জি ড্রিংকসের একটি তফাত হলো, এতে আছে উঁচু মাত্রায় ক্যাফেইন। ক্লান্তি দূর করার জন্য ও পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য এর প্রচার করা হয় (সূত্র: মিলার ই: জার্নাল এডল হেলথ: ২০০৮)।
বেশির ভাগ এনার্জি ড্রিংকে প্রতি ২৫০ মিলিলিটার ক্যানে আছে ৮০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন, কোনো কোনো ড্রিংকে আছে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত।
ক্যাফেইন একটি আসক্তি তৈরি করার মতো ওষুধ, যা সাধারণত নিরাপদ মনে করা হয়। এটি কেন্দ্রীয় ও প্রান্তিক স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। মাঝারি মাত্রায় পারফরম্যান্স, ধৈর্য ও মনোযোগ বাড়াতে পারলেও বেশি মাত্রায় গ্রহণে ক্যাফেইন ঘটাতে পারে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, পেটের অসুখ ও হার্টের ছন্দে অনিয়ম। (সূত্র: নাওরাট পি ও অন্যান্য: ফুড এডিট কনটাম ২০০৩)।

বেশি ক্যাফেইন গ্রহণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উৎকণ্ঠার জন্যই ডেনমার্ক ও ফ্রান্সে এনার্জি ড্রিংক সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিশুদের কাছে এ রকম পানীয় বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নরওয়ে ও আর্জেন্টিনায় এর বিক্রি সীমিত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে স্টিমুল্যান্ট ড্রিংকস কমিটি প্রস্তাব করেছে, এনার্জি ড্রিংকের লেবেলে এই পানীয়টি যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী ও দুগ্ধবতী নারীদের জন্য বিপজ্জনক, তা লেখা থাকা উচিত।
গবেষকেরা দেখছেন, যেসব শিশু ও তরুণ নিয়মিত এনার্জি ড্রিংক পান করে, তারা এতে আসক্ত হয়ে পড়ে। ক্রমে ক্রমে বেশি মাত্রায় পানীয় গ্রহণ অভ্যাসে পরিণত হয় এবং তখন তা স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি মাঝারি মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণও কোনো কোনো বয়সে বিপদ ডেকে আনতে পারে। ক্যাফেইন কাজ করে মগজের এমন এক অংশের ওপর, যা আসক্তির কেন্দ্র বলে বিবেচিত। তাই ক্রমে ক্রমে ভবিষ্যতে ক্যাফেইন পানীয়র ওপর অনুরাগ ঘটে, যেমন চিনিবহুল কোমল পানীয় যা পরে দেহের স্থূলতাও টাইপ২ ডায়াবেটিসের পথে নিয়ে যেতে পারে। শৈশব ও বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত বয়স হলো দ্রুত বাড়ন ও মগজের বিকাশের অন্তিম স্তরের কাল। এ বয়সে পর্যাপ্ত নিদ্রা ও সুষম পুষ্টি বড় প্রয়োজন। এনার্জি ড্রিংকের ক্যাফেইন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং পানীয়র চিনি (প্রতি ক্যানে ৮-৯ চামচ চিনি) অনেক পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প হয়ে ওঠে।
এনার্জি ড্রিংক অনেক শিশুর মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও অতি চঞ্চলতা সৃষ্টি করে।
ক্যাফেইনের কোনো পুষ্টিগুণ নেই, তাই একে উৎসাহিত করারও তেমন কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন দেশের অনেক বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে এনার্জি ড্রিংক সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক স্টোরে, আউটলেটে এর বিক্রি বন্ধ করা বেশ কঠিন। অন্যান্য ক্যাফিনেটেড ড্রিংক, কফি ফ্লেভারড মিল্ক ড্রিংক ও কোলাও থাকে এর সঙ্গে। তবে দোকান বা বাজারের ওপর কেবল দোষ দেওয়া কেন? অনেক মা-বাবা বাচ্চাকে নিজেরাই কিনে দেন এনার্জি ড্রিংক। হয়তো তাঁরা জানেন না ক্যাফেইনের কুফলগুলো।
স্কুল-কলেজে এনার্জি ড্রিংক নিষিদ্ধ করা সমীচীন হবে। মা-বাবা বাচ্চাদের আওতার মধ্যে এসব ড্রিংক যাতে না আসে তাও দেখবেন।
ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকেরা সবার জন্য পানীয় হিসেবে ‘কেবল জল’কে প্রণোদিত ও উৎসাহিত করলে সবার মঙ্গল হবে। মূল লেখকঃ অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী, প্রথম আলো, তারিখ: ০৩-১১-২০১০
Read More

শীতে ত্বকের যত্ন


শীতে শুধু সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বর, অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট নয়_ ত্বকেরও সাধারণ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। জেরোসিস বা ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ইকথায়োসিস বা দেহের বিভিন্ন অংশে স্কেলি বা মাছের অাঁশের মতো হওয়া এবং স্ক্যাবিস বা খোস-পাঁচড়া_ এ সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান। আসুন এ সমস্যাগুলো কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় জেনে নেই_
জেরোসিস
এ ক্ষেত্রে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়াজনিত বিভিন্ন সমস্যা যেমন চুলকানি ও খুসকি দেখা যায়। যে কোন বয়সেই এটি হতে পারে তবে বয়স্করা বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জেরোসিস হয় বেশি। তাই ত্বককে আদর্্র রাখাই হবে মূল চিকিৎসা, এ ক্ষেত্রে তেল জাতীয় জিনিস ইমোলিয়েন্ট ত্বকে ব্যবহার করা যায়। ইমোলিয়েন্ট হচ্ছে অলিভ ওয়েল বা জলপাই তেল, বহুল ব্যবহূত সরিষার তেল বা নারকেল তেল। এছাড়া অয়েন্টমেন্ট যেমন ৫-১০ ভাগ ইউরিয়া ত্বকে মাখা যায়। ঠোঁট বা ত্বকের যে কোন অংশে ফাটা রোধে বা এর চিকিৎসায় গ্লিসারিন আমাদের দেশে বহুল ব্যবহূত হচ্ছে।
ইকথায়োসিস
ত্বক শুষ্ক হয়ে মরা চামড়ার মতো অাঁশ ওঠে। সাধারণত হাত ও পায়ে বেশি হয়। চিকিৎসা জেরোসিসের মতই, এছাড়া ১-৫ ভাগ স্যালিসাইলিক এসিড ব্যবহার করা যায়। শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার ওষুধ বা ডিজিজ মডিফাইং এজেন্ট খুব জরুরি নয়। লোকাল বা শুষ্ক জায়গা আদর্্র রাখলেই হল।
খোস-পাঁচড়া
শীতে গরমের তুলনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কম থাকা হয়। গোসল করা হয় কম, হাত-পাও ধোয়া হয় কম এবং একই কাপড় বারবার ব্যবহার করে ভালো মতো ধুয়েও তেমন ব্যবহার করা হয় না। এ জন্যই এক ধরনের পরজীবী সাইকোপটিস স্ক্যাবি দিয়ে অত্যন্ত ছোঁয়াচে এ রোগটি হয়। এ ক্ষেত্রে প্রচণ্ড চুলকানি (বিশেষ করে রাতে) হাতে, পায়ে, পেটে নাভির কাছে, জনন অঙ্গের চারপাশে, দুই পায়ের মাঝে হয়।
প্রধান চিকিৎসা হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। পারমেথ্রিন নামক ট্রপিক্যাল ক্রিম এখন এতে বেশ ব্যবহূত হচ্ছে, মাথা ও মুখ ছাড়া গলা থেকে পা পর্যন্ত ক্রিম রাতে মেখে দিনে ধুয়ে ফেলা যায়। সাধারণত একবার ব্যবহার করলেই চলে। তবে এ ক্রিম দিয়ে চিকিৎসা পরিবারের সবার একসঙ্গে নিতে হবে, এ ক্রিম ছাড়াও সালফোনাইল ইউরিয়া, স্ক্যাবিওলও ব্যবহার করা যায়।
ত্বক অতিরিক্ত কালো হওয়া
শীতে শরীর গরম রাখার উদ্দেশ্যে আমরা সূর্যের আলোয় রোদ পোহাই। এছাড়া বিভিন্ন উৎসবে কসমেটিকসের ব্যবহারও এ সময় বেড়ে যায়। এ সবই ত্বকে হাইপার পিগমেন্টেশন করে ফলে ত্বক কালো হয়ে যায়। আমাদের দেশে যে কসমেটিকস পাওয়া যায় তা ত্বকে সংবেদনশীলতা তৈরি করে কিনা জানা যায় না। এ ছাড়া কোন ত্বকে কি ধরনের কসমেটিকস ব্যবহার করা যায় সে ব্যাপারেও আমরা ততটা সচেতন নই। কসমেটিকস লাগানোর পর রোদে না যাওয়াই ভালো। যদি যেতেই হবে তবে সানব্লকার বা সান প্রটেকটিং ফ্যাক্টর ১৫ বা তার উপরে মেখে বের হওয়া ভালো। এ ব্লকার সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
খুসকি
শীতে খুসকি বাড়ে। এ জন্য মেডিকেটেড শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ভালো হয়। কিটোকোনাজল, অ্যালোভেরা বা টার শ্যাম্পু ব্যবহার করা যায়।
এ ছাড়া এ সময় পুরনো চর্মরোগ যেমন সোরিয়াসিসে স্কেলিংয়ের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার
সহযোগী অধ্যাপক, ত্বক ও যৌনব্যাধি বিভাগ
যুগান্তর ২০-১১-১০
Read More
Powered by Blogger.