Tuesday, May 14, 2013

বালক এখনও বিছানা ভেজায় !?

প্রায়শ দেখা যায় মায়েরা অভিযোগ করছেন তার বাচ্চার বয়স ৬/৭ বছর। এখনও সে বিছানায় প্রস্রাব করে দেয়। আসলে ১০-১৫% বালকেরা তাদের ৫ বছর বয়সেও এখনও বিছানায় প্রস্রাব করে। ৩% ১০ বছরের বালক এখনও বিছানা ভেজায়। যৌবন ও পূর্ণ বয়স্কে তা কমে ১% এর নিচে দাঁড়ায়।
বালকদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি। তবে বালিকাদের মধ্যেও এমনটি হয় না তা নয়। প্রথম বাচ্চার ৰেত্রে এ সমস্যা বেশি। বেশি অল্প আয়ের মানুষের মধ্যে। যেসব বাচ্চারা মানসিকভাবে এবং শারীরিক গঠনে অনগ্রসর তাদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি হয়। আধুনিক যুগে রাত্রিকালে বিছানায় প্রস্রাবের বিষয়টা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তাই কিছুটা দ্বিধাগ্রসত্ম। হয়তো বা সবচেয়ে বড় বিষয় জড়িত জন্মগত পরিবারের বংশগতিজনিত প্রস্রাবের থলির স্কিংটারের অপরিপক্বতা। যদি পিতা-মাতা উভয় শৈশবে রাত্রিকালীন বিছানায় প্রস্রাবের রোগে ভুগে থাকে তাহলে বাচ্চাদের মধ্যে ঝুঁকি থেকে যায় ৭৫% এই রোগে ভোগার। আর যদি পারিবারিক ইতিহাস না থাকে তবে এই রোগে ভোগার ঝুঁকি ১৫%। এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, স্ট্রেসে, স্কুলের চাপে বিছানা ভিজানোর সমস্যা বেশি দেখা যায়।
রাত্রিকালীন প্রস্রাবের কোন সুস্পষ্ট হেতু পাওয়া যায় না। তবে খতিয়ে দেখতে হবে কোন প্রস্রাবের প্রদাহ জড়িত আছে কিনা কিংবা অতি প্রস্রাবের কোন কারণ জড়িত আছে কিনা। ১৫% ৰেত্রে দেখা যায় প্রস্রাবের প্রদাহ সমস্যা জড়িত থাকে। প্রদাহের চিকিৎসা করালেই তাদের সমস্যা কেটে যায়। ৩০% বাচ্চা এৰেত্রে মুক্তি পায়।
কি করণীয় :
এক্ষেত্রে কি করতে হবে, ভালভাবে ইতিহাস জানতে হবে। রাত্রিকালে ভিজালে দিনেও স্বভাবত ভেজানোর প্রবণতা থাকে। তাই মেরুদন্ড, তলের পেট, মুত্র থলি এবং নিচের অঙ্গের সজাগ্রতা লব্ধ করতে হবে।
আসলে সমস্যাটা অত জটিল নয়। কিন্তু সমাধান বেশ কষ্টসাধ্য। ৪ বছরের পর থেকে ৫% শিশুদের মধ্যে প্রতিবছর এ রোগ থেকে মুক্তি ঘটে। চিকিৎসা ৬ বছরের আগে খুব কদাচিৎ শুরু হয়।
ব্যাপারটা বাবা-মা ও বাচ্চাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। মা-বাবা যেন বাচ্চার ৰেত্রে কোন রকম শাস্তির বিধান না রাখে সে ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে। কারণ তা না হলে হীতে বিপরীত হতে পারে।
চিকিৎসায় আছে কিছু সাধারণ পদক্ষেপ এবং কিছু ওষুধ।  ঘুমের আগে অতিরিক্ত পানি পান না করানো। ঘুমের শুরুর ৩ ঘণ্টার মধ্যে সাধারণত ভেজানো হয়। তাই এসময় বাচ্চাকে জাগিয়ে বিছানায় প্রস্রাবকে পরিহার করানো যায়।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে হবে যখন সে শুকনো রাখবে। তবে ভেজালে বকা যাবে না।
এ্যালার্ম ব্যবহারঃ এ্যালার্মের ব্যবহার প্রায় ১০০ বছর পুরানো। বাচ্চার প্যান্টের ভিতর সেন্সর থাকবে। যেই ভিজবে সেই এ্যালার্ম বেজে উঠবে। সে উঠে যাবে। আবার ভিজা বিছানা গুছিয়ে শুয়ে পড়বে। এভাবে সে মানসিকভাবে সতর্ক হয়ে যাবে। এর ফলে তার মধ্যে একটা সচেতন রিফেক্স গড়ে উঠবে আসত্মে আসত্মে। এ্যালার্ম খুব কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা। এভাবে সে সেরে উঠতে পারে। আবার পুনরায় রোগের প্রকোপ দেখা দিলে একই প্রক্রিয়ায় এ্যালার্ম ব্যবহার করলে তার অবস্থার উন্নতি হবে এবং তরে তরে সে তার বিছানা শুকনো রাখতে শিখবে। এটাই মূল চিকিৎসা বলে বিবেচিত।
ওষুধ : ইমিপেরামিন ও ডেসমোপেরেসিন ওষুধ দুটো বেশ তাতক্ষণিকভাবে প্রকোপ ৫০ থেকে ৮০% কমিয়ে দিতে পারে তবে পরে আবার যা তা পুনরায় সমস্যা ফিরে আসে প্রায় অধিকাংশ ৰেত্রে।
তবে অল্প সময়ের জন্য কোন ক্যাম্প বা বন্ধুদের সাথে কোন ভ্রমণ বা ছুটি কাটাতে ওষুধ দুটো ব্যবহার করা যেতে পারে।
যদি সে ১৬ সপ্তাহের চিকিৎসায় ১৪ দিন শুকনো থাকে তবে মনে করা যেতে পারে সে প্রাথমিক শুকনো রাখার প্রক্রিয়ায় জিতে গেল। আর যদি ২ বছর পর্যনত্ম সে শুকনো প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে তাহলে সারা জীবনের জন্য সে জিতল।
মূল লেখকঃ ডা. এটিএম রফিক (উজ্জ্বল), রেজিঃ শিশু বিভাগ, হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতাল, ঢাকা। জনকন্ঠ ৩০ মার্চ ২০১০
Read More

ধ্যান ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ

শরীর ও মনের নানা রোগ প্রতিরোধে মনের শিথিলায়ন এবং ধ্যানচর্চার যে বড় ভূমিকা রয়েছে, তা ক্রমেই বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ট্রানসিডেনটাল মেডিটেশন বা তূরীয় ধ্যান বেশ ফলপ্রসূ। ৭০ বছর বয়সী একজন মহিলা ধ্যানচর্চা শুরু করলেন।
তাঁর ধমনিপথ অনেকটা রুদ্ধ, উচ্চরক্তচাপ এবং তলপেটে মেদ—এসব ঝুঁকি তাঁর ছিল। ভদ্র মহিলার ১০ বছর পেরিয়েছে, তিনি এখন দিনে দুবার ধ্যান করেন, প্রতিবার ২০ মিনিট। বড় রকমের একটি হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর যিনি বেঁচে উঠলেন, করোনারি বাইপাস সার্জারি ও দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার পর তিনি এখন শরীর ও মন শিথিলায়নে রত। তিনি বলেন, ‘মনে এখন অনেক কিছুর তোলপাড়, সবকিছু ভুলে ধ্যান করুন, নিজের জীবন হবে লাবণ্যময়।’ যে সমস্যা ছিল বলে মনে করেন, তা হয়তো থাকবে না। মনের শিথিলায়নের কোনো সুফল কি শরীরের ওপর পড়ে? সেই ভদ্র মহিলার ক্ষেত্রে সুফল পড়ে ছিল। তাঁর রক্তচাপ এসেছিল নিয়ন্ত্রণে, ওষুধ যদিও খান তবু নিয়ন্ত্রণে আছে এও কম নয়, তিনি ওজন কমিয়েছেন ৭৫ পাউন্ড।
আমেরিকার ওরল্যান্ডোতে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসব গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। বলা হচ্ছে: তূরীয় ধ্যান, অর্থাত্ চেতনার স্তর থেকে বেরিয়ে কিছুক্ষণ উচ্চমার্গে থাকা—এতে বেশ লাভ হয়। এ ধরনের ধ্যান করার জন্য বড় প্রস্তুতি লাগে না, চেষ্টা করলে সম্ভব। নীরবে বসে চোখ বুজে একটি বিশেষ শব্দ বারবার মনে মনে উচ্চারণ করতে করতে গভীর ধ্যান করা এবং এভাবে মগ্ন হওয়া, শান্তির জগতে ভ্রমণ করাই তূরীয় ধ্যান। যাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি খুব বেশি এবং করোনারি হূদরোগ রয়েছে, তাদের জন্য এমন ধ্যানচর্চা বেশ ফলপ্রসূ।
ধ্যানচর্চা অবশ্য চিকিত্সা বা ওষুধের বিকল্প নয়, ওষুধের সঙ্গে একে যুক্ত করলে হিতকর ফলাফল অনেক বেড়ে যায়। ২০০ জন রোগীকে পাঁচ বছর অনুসরণ করে গবেষকেরা দেখলেন, উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন রোগী যাঁরা ধ্যান করছিলেন, তাঁদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ও সার্বিক মৃত্যু প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। এই তুলনাটি করা হয়েছিল আরেক দল রোগীর সঙ্গে, যাঁদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং জীবনযাপন সম্বন্ধে শিক্ষাদান করা হয়েছিল।
১০০ জন রোগী যাঁরা ধ্যানচর্চা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০টি। কেবল স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও জীবনযাপনের চর্চা যাঁরা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে তেমন ঘটনা ঘটেছিল ৩২টি।
ধ্যান যাঁরা করেছিলেন, তাঁরা রোগমুক্ত থাকতে পেরেছিলেন আরও দীর্ঘকাল এবং গড়ে তাঁদের সিস্টোলিক রক্তচাপ কমে এসেছিল পাঁচ মিলিমিটার। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাচারাল মেডিসিন অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরিচালক রবার্ট স্নাইডার বলেন, রক্তচাপ হ্রাস পাওয়া ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণাটি হয়েছিল সেই ইনস্টিটিউট এবং উইসকনসিন মেডিকেল কলেজের যৌথ প্রয়াসে। গবেষণাটি উপস্থাপন করেন রবার্ট স্নাইডার। মিলোকিতে অবস্থিত উইসকনসিন মেডিকেল কলেজের সঙ্গে মৌলিকভাবে যুক্ত ছিল ফেথারফিল্ড, আইওয়ার মহাঋষি ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট। মিলোকির অধিবাসীদের মধ্যে যাঁদের উচ্চ ঝুঁকি ছিল, যাঁদের অনেকে ছিলেন ওজনে ভারী বা স্থূল, তাঁরা স্বাভাবিক ওষুধের সঙ্গে তূরীয় ধ্যানচর্চা করে আগে দেখেছেন যে এতে রক্তচাপ অনেক হ্রাস পায়। তাঁদের অনেকের ছিল মাত্র হাইস্কুল পাসের বিদ্যা। তাঁদের মধ্যে ৪০ শতাংশ ছিলেন ধূমপায়ী। বার্ষিক আয় ছিল ১০ হাজার ডলারের কম।
অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা সহজেই ধ্যান করা শিখতে পেরেছিলেন—বলেন স্নাইডার। সৌভাগ্যবশত এই ধ্যান করা শিখতে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয় না। জীবনযাপন, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে এর দ্বন্দ্ব হয় না। এই ধ্যান হলো মন ও শরীরের গভীর বিশ্রামের জন্য একটি সোজাসুজি পদ্ধতি।
স্নাইডার বলেন, এই কৌশল অবলম্বন করে শরীরের নিজস্ব ক্ষয় পূরণ, মেরামতি এবং স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনা যায়।
স্নাইডার বলেন, এই মানসিক চাপ কমার পরপর ধ্যানচর্চার অন্যান্য সুফল পাওয়া যেতে থাকে। মাঝেমধ্যে ঘটে পরিবর্তন, কর্টিসোলের মতো স্ট্রেস হরমোন বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রদাহ প্রতিক্রিয়া দমে যায়। আর হূদরোগের বড় ব্যাপার এথারোসক্লেরোসিসের পেছনে রয়েছে প্রদাহ, প্রতিক্রিয়া তো বটেই।
উইসকনসিন মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ বিভাগের অ্যাসোসিয়েট ডিন থিওডোর কোচেন বলেন, হূদবাহ রোগের পেছনে আছে মানসিক চাপ। এ সম্বন্ধে আরও কী জানা যায়? ‘হরমোন, নিউরাল হরমোন, কর্টিসোল, ক্যাটেকোলেসাইনস—এ সবই মানসিক চাপে উঁচু মানে পৌঁছে যায়।
তাহলে এগুলো কি কোনোভাবে হূদরোগ ও রক্তনালির রোগের পেছনে রয়েছে? তাই ধ্যানমগ্ন হয়ে এসব হরমোন কিছুটা হ্রাস করলে কি রোগ কমানো যাবে? এ কেবল চিন্তাভাবনার বিষয়। ভাবতে পারি কেবল।
আমেরিকান জার্নাল অব হাইপারটেনশন এই তূরীয় ধ্যানকে প্রধান উপজীব্য বিষয় করে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছিল। এতে তরুণ সুস্থ লোকদের ওপরই হয়েছিল গবেষণা। দেখা গেল, চাপগ্রস্ত কলেজ ছাত্রছাত্রীরা এই ধ্যান করে মনমেজাজ বেশ ভালো করল, আর যাদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ছিল, তাদেরও রক্তচাপ হ্রাস পেল। স্নাইডারও এই গবেষণায় যোগ দিয়েছিলেন, তাঁর গবেষণাটি হয়েছিল ওয়াশিংটনে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং তিনি গবেষণার জন্য অন্তর্ভুক্ত করেন ২০৮ জন শিক্ষার্থীকে।
যেসব শিক্ষার্থীর উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ছিল, এবং যারা ধ্যান অভ্যাস করেছিল, তাঁদের সিস্টোলিক চাপ কমেছিল ৬ দশমিক ৩ মিলিমিটার এবং ডায়াস্টোলিক কমেছিল গড়ে ৪ মিলিমিটার।
সূত্রঃ অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর কলম থেকে | প্রথম আলো, তারিখ: ১৩-০১-২০১০
Read More

আর কিছু পান নাই? হাঁটতে বলছেন? কিন্তু কেন হাঁটবো???


স্যাটেলাইট চ্যানেলের কল্যাণে বিদেশি একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেখে থাকবেন অনেকেই। ওই বিজ্ঞাপনের মূল স্লোগান হচ্ছে ‘ওয়াক অ্যান্ড টক’। অর্থাত্ মোবাইল ফোনে কথা বলার সময়টুকুতে হাঁটুন। ফোন কোম্পানিগুলোর নানা অফারের বদৌলতে মোবাইলে কথা বলার প্রবণতা ব্যাপক হারে বেড়েছে, এ কথা অনস্বীকার্য। এমনকি অনেককে বিছানায় গা এলিয়ে অথবা সোফায় পিঠ হেলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনে এই কথা বলার সময়টুকুতে বসে বা শুয়ে না থেকে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপনের শেষাংশে দেখানো হয়, এই অভিনব আইডিয়া অনুসরণের ফলে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা শারীরিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি ফিট হয়ে উঠেছেন।
Walk as exercise
মূলত, আলোচ্য কোম্পানির প্রচারণার জন্যই বিজ্ঞাপনটির সৃষ্টি, কিন্তু এর অন্তর্নিহিত বক্তব্যটিও রসিকতার ঢংয়ে উপস্থাপিত হলেও বেশ গুরুত্ব বহন করে। অনেক আগে থেকেই চিকিত্সক ও বিজ্ঞানীরা মেনে আসছেন, হাঁটাই সর্বোত্কৃষ্ট ব্যায়াম। সব বয়সের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এ ব্যায়ামটি সবচেয়ে কম খরচে শারীরিকভাবে সবচেয়ে ভালো থাকার অন্যতম উপায়। জন্মের এক বছরের মধ্যেই শিখে নেওয়া এ ব্যায়ামটি ঘরে-বাইরে যেকোনো জায়গায় করা যায়, ব্যক্তির শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী এর তীব্রতা বাড়ানো-কমানো যায়, উপযুক্ত পোশাক এবং একজোড়া ভালো জুতা ছাড়া এর জন্য আর কোনো অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন পড়ে না।
ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে নিয়মিত হাঁটার স্বাস্থ্যকর উপযোগিতা অনেক।
হূদযন্ত্রের সুরক্ষা ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
নিয়মিত হাঁটার ফলে হূদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে হূদযন্ত্র স্বল্প চেষ্টায় দেহে অধিক পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে পারে এবং ধমনির ওপরও চাপ কম পড়ে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই হাঁটা অনেকটা উচ্চ রক্তচাপরোধী ওষুধের মতোই কাজ করে। এ ছাড়া হাঁটার ফলে রক্তে ‘খল কোলেস্টেরল’ নামে পরিচিত লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন কমে যায়। এই ‘খল কোলেস্টেরল’ পরিমাণে বেড়ে গেলে তা ধমনির গায়ে জমা হয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭২ হাজার নারীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা সপ্তাহে অন্তত তিন ঘণ্টা অথবা দৈনিক আধা ঘণ্টা করে হাঁটেন, তাঁদের ক্ষেত্রে হূদরোগ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম।
ডায়াবেটিস ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি হ্রাস
যুক্তরাষ্ট্রে ডায়াবেটিস প্রিভেনশন প্রোগ্রামের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হাঁটা আর দৈহিক ওজন সাত শতাংশ কমানোর মাধ্যমে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৫৮ শতাংশ কমিয়ে আনা যায়। অন্যদিকে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানান, দৈনিক এক ঘণ্টা করে সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটার মাধ্যমে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ হ্রাস পায়।
হাড়ের ক্ষয় ও ভাঙন রোধ
গবেষণায় দেখা গেছে, রজঃনিবৃত্তি-পরবর্তী বয়সে যেসব মহিলা প্রতিদিন অন্তত এক মাইল করে ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে হাঁটেন, তাঁদের হাড়-ঘনত্ব কম-সচল মহিলাদের তুলনায় বেশি। হাঁটার ফলে যেমন হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা হ্রাস পায়, তেমনি আরথ্রাইটিসসহ হাড়ের নানা রোগ হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। কমে যায় বয়সকালে সহজেই কোমরের হাড় ভাঙার ঝুঁকিও।
মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন
হাঁটার ফলে ভালো লাগার অনুভূতি জাগে মনে, মানসিক চাপ বোধ হয় কম। এ সময় শরীরে এন্ডোরফিন নামের রাসায়নিকের ক্রিয়া বেড়ে যায় বলে ঘুম হয় আরামদায়ক। মেডিসিননেটডটকম ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গবেষকেরা বলেছেন, প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটার ফলে বিষণ্নতার উপসর্গ ৪৭ শতাংশ হ্রাস প্রায়। অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মহিলা সপ্তাহে অন্তত দেড় ঘণ্টা হাঁটেন, তাঁদের বোধশক্তি সপ্তাহে ৪০ মিনিটের কম হাঁটা মহিলাদের তুলনায় বেশি।
ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস
মহিলাদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে সপ্তাহে অন্তত দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টা হাঁটেন, তাঁদের স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি যাঁরা হাঁটেন না তাঁদের চেয়ে ১৮ শতাংশ কম। ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যানসার স্টাডিতে প্রকাশিত আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাঁটার ফলে খাদ্যনালির নিম্নাংশের ক্যানসারের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ হ্রাস পায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি
স্বাস্থ্যকর, সুষম খাবার ও নিয়মিত হাঁটা—দীর্ঘমেয়াদি ওজন-নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল চাবিকাঠি। হাঁটার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এমনকি বৃদ্ধ বয়সেও সবলতা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত হাঁটা প্রয়োজন। তালিকা এভাবে বাড়তেই থাকবে। হাঁটার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। যেকোনো ধরনের হাঁটাই উপকারী। তবে প্রকৃত সুফল পাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন আধা ঘণ্টা করে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন মধ্যম গতির হাঁটার উপদেশ দেন। তবে কোনো ধরনের শারীরিক অসুস্থতা থাকলে চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন, কতটুকু হাঁটা আপনার জন্য উপযোগী।
মূল লেখকঃ মুনতাসীর মারুফ, প্রথম আলো, ১৩-০১-১০
Read More

গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করা কতটা প্রয়োজনীয়


আজ আমাদের দেশে রোগ নির্ণয়ে আলল্ট্রাসনোগ্রাম একটা সুপরিচিত নাম। এর বিসতৃতি খুব দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে এর বিসতৃতি ঘটেছে। তবে একটা কথা বলতেই হচ্ছে- বেসরকারীভাবে এর বিসতৃতি সর্বাধিক।
রোগ নির্ণয়ের জন্য সকল পরীক্ষা  রোগীরা ডাক্তারের পরামর্শে করে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশে আল্ট্রাসনোগ্রাম সাধারণত তিনটা উপায়ে হয়ে থাকে। তা নিম্মরূপঃ
১। ডাক্তারের পরামর্শমতে
২। ডাক্তার ও রোগীর সম্মতিক্রমে
৩। রোগীর পছন্দমতে
বিভিন্ন কারনে এরকম একটি বাসত্মবতা তৈরী হয়েছে। স্বল্পব্যয়ে স্বল্প সময়ে অনায়াসে রোগ নির্ণয়ের এ পদ্ধতিতে মানুষ সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে। আর জানা মতে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এ বিষয়টিকে অবশ্যই পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখতে হবে। এ প্রক্রিয়া যাতে আরও সুচিন্তিত ও সুশৃংখলভাবে অগ্রসর হয় তার জন্য গর্ভবর্তী মায়েদের আল্ট্রাসনোগ্রাম করার নির্দেশনা ও প্রাপ্ত সুবিধাদি নিম্মে বর্ণিত হলঃ

ক) গর্ভধারনের ৯ – ১২ সপ্তাহের মধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম করলেঃ

১। গর্ভধারন সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া যায়।
২। ভ্রূণ জীবিত না মৃত নিশ্চিত হওয়া যায়।
৩। ভ্রূণ জরায়ুর মধ্যে না বাইরে নিশ্চিত হওয়া যায়।
৪। গর্ভকালীন সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
৫। জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে কোন টিউমারের উপস্থিতি নির্ধারন করা যায়।
৬। মোলার প্রেগন্যান্সি এবং অনিষিক্ত ডিম্বানু  সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
খ) গর্ভধারনের ১৮ – ২২ সপ্তাহের মধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম করলেঃ
১। গর্ভকালীন সময় নির্ধারন করা যায়।
২। গর্ভে এক বা একাধিক শিশু কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়।
৩। শিশুর জন্মগত অসুবিধা নির্ণয় করা যায়।
৪। গর্ভফুলের অবস্থান নির্ণয় করা যায় এবং পস্নাসেন্টা প্রিভিয়ার (গর্ভফুল জরায়ুর মুখে অবস্থান করলে) ক্ষেত্রে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

গ) গর্ভধারনের ৩২ – ৩৬ সপ্তাহের মধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম করলেঃ

১। গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি কমে যাওয়া বোঝা যায়।
২। শিশুর কোন জন্মগত ত্রুটি নির্ণয় করা যায়।
৩। শিশুর অবস্থান এবং উপস্থাপনা  নির্ণয় করা যায়।
৪। ভ্রূণ আবরক পর্দার ভিতর পানির পরিমান নির্ণয় করা যায়।
৫। শিশুর ওজন নির্ণয় করা যায়।
অনেক ডাক্তার মনে করেন স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করা অপ্রয়োজনীয়। আবার অনেকে যুক্তি দেখান যে সব গর্ভকালীন অস্বাভাবিকতা ডাক্তারী পরীক্ষার  মাধ্যমে ধরা পড়ে না। তাই গর্ভকালীন সময়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে মনে রাখতে হবে আল্ট্রাসনোগ্রামই গর্ভকালীন সময়ের একমাত্র পরীক্ষা নয়। আর শিশুর লিঙ্গ নির্ধারনের জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম করার যে ঝোঁক তা সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিহত করতে হবে।
মূল লেখকঃ ডাঃ শ্যামল কুমার মজুমদার, জেনারেল প্রাকটিশনার,ফরিদপুর। জনকন্ঠ, ৩০.০৩.১০
Read More

 স্বাস্থ্যটিপস: গরমে জ্ঞান হারালে কি করবেন?


যানবাহনগুলো তার ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি মানুষ নিয়ে ছুটছে গন্তব্যে। ফিরে আসা মানুষগুলোর দুর্ভোগ বাড়াতে যুক্ত হয়েছে গরম। অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে না পেরে কেউ কেউ ঢলে পড়ছে সহযাত্রীর গায়ে। সহযাত্রীও কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কী করবেন তিনি? এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার প্রস্তুতিটা নিয়ে নিন এখনই। প্রচণ্ড গরমে সাধারণত চার ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।
১. হিট সিনকোপ
২. হিট ক্রাম্প
৩. হিট এক্সজশন
৪. হিট স্ট্রোক।
হিট সিনকোপ: অত্যধিক গরমে কাজ করার জন্য রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে রোগীকে বিছানায় শুইয়ে দিতে হবে। প্রচুর পানি পান করাতে হবে।
হিট ক্রাম্প: অতিরিক্ত গরমে ঘামের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ লবণ বের হয়ে যাওয়ার ফলে হাত-পায়ের মাংসপেশিতে বেদনাদায়ক সংকোচন হয়। রোগীকে ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে। পানিতে এক গ্রাম খাদ্যলবণ মিশিয়ে আধ ঘণ্টা পর পর রোগীকে খাওয়াতে হবে। শিরাপথে নরমাল স্যালাইনও দেওয়া যেতে পারে।
হিট এক্সজশন: দীর্ঘ সময় ধরে রোদে থাকার জন্য হয়। রোগী পিপাসার্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া মাংসপেশির অসামঞ্জস্য সংকোচন ঘটে। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে রোগীকে ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে। প্রচুর পানি পান করাতে হবে। রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে হাইপারটনিক স্যালাইন দিতে হবে।
হিট স্ট্রোক: এটি সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা। এতে রোগী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারাও যেতে পারে। রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাপমাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায় এবং শরীর থেকে ঘাম ঝরা বন্ধ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে শরীরের জামাকাপড় খুলে দিতে হবে। রোগীকে ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে এবং বরফ গলা পানি দিয়ে শরীর স্পঞ্জ করে দিতে হবে।
মূল লেখক— সিদ্ধার্থ মজুমদার, প্রথম আলো, ১৫-০৯-১০
Read More

ত্বকে সংক্রমণ হলেই অ্যানথ্রাক্স নয়!

অ্যানথ্রাক্স রোগে মানুষের ত্বকে সংক্রমণ হয়। তবে দেখতে একই রকম হলেও এ সংক্রমণ আরও কিছু কারণে হতে পারে। যেমন_ ইমপিটিগো, ফারনকল, ফিক্সড ড্রাগ র্যাশ এবং ইকথিমা নামক ত্বকের রোগে। আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, অ্যানথ্রাক্সের কারণে সংক্রমণে ত্বকের ক্ষতস্থানে প্রথমে ফুসকুড়ি হয় পরে ত্বকের মাঝে কালো আলকাতরার মতো হয়। যেন সিগারেটের ধোঁয়ায় ত্বক পুড়ে গেছে। এজন্যই অ্যানথ্রাক্স শব্দটি গ্রিক অ্যানথ্রাকিস থেকে এসেছে, যার অর্থ আলকাতরার মতো কালো। এ ক্ষতস্থানের চারপাশ ফুলা থাকে এতে কোন ব্যথা থাকে না। ত্বকে সংক্রমণ হলে চিন্তার মোটেই কারণ নেই। নির্দিষ্ট মেয়াদে এন্টিবায়োটিক যেমন_ পেনিসিলিন বা ডক্সিসাইক্লিন বা সিপ্রোফ্লক্সসিন খেলে এ সংক্রমণ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। ত্বকে সংক্রমণ হলে চিকিৎসাবিহীন থাকলে শতকরা ২ জনের মৃত্যু হতে পারে।
ইমপিটিগো ত্বকের রোগটি শিশুদের প্রধানত মুখে হয়। এছাড়া হাত-পায়েও হতে পারে। এতে ত্বকে প্রথমে ফোস্কা পরে, পরবর্তিতে ফোস্কা ফেটে গিয়ে ত্বকের মাঝখানে একটু গর্ত হয়ে কালচে বর্ণ ধারণ করে।
ফারনকল লোমকূপের গোড়ায় হয়। এতে হলুদ বর্ণের ফুসকুড়ি হয় এবং শুকালে কালো বর্ণ ধারণ করে।
ফিক্সড ড্রাগ রিঅ্যাকশন সাধারণত সালফার জাতীয় ওষুধ গ্রহণের কারণে হতে পারে। এছাড়া ডক্সিসাইক্লিন, প্যারাসিটামল ইত্যাদি ওষুধের কারণেও হতে পারে। এতে ত্বক লালচে হয়ে যায়, যাকে ইরাইথেমা বলে এবং বেশিমাত্রায় হলে ত্বকে ফোস্কা পড়ে।
এছাড়া ইকথিমা নামক ত্বকের রোগেও ত্বক কালচে বর্ণ ধারণ করে।
অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস খেলেই কেবল মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। এতে রক্তযুক্ত পায়খানা বা বমি এবং মুখে বা অন্ত্রে ঘা হতে পারে। এজন্য গরু অসুস্থ সন্দেহ হলে প্রাণী চিকিৎসককে দেখিয়ে ১০-২০ সিসি পটাশিয়াম ক্লোরাইড ইনজেকশন দিয়ে গরুকে মেরে ফেলতে হবে। মৃত গরু পলিথিনে পেঁচিয়ে ৬ ফুট মাটির নিচে পুঁতে রাখতে হবে, ফলে অক্সিজেনের অভাবে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু বা স্পোর বেঁচে থাকতে পারে না।
মনে রাখবেন চারপায়ী জন্তুদের মধ্যে শূকর এবং পাখির মধ্যে শকুনের কখনও অ্যানথ্রাক্স হয় না। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস সিদ্ধ করলেও জীবাণুমুক্ত হয় না।
মূল লেখকঃ অধ্যাপক ডা. এম ইউ কবীর চৌধুরী, ত্বক ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ। যুগান্তর ২৫-০৯-১০
Read More

অ্যানথ্রাক্স-এর রকম ফেরঃ


অ্যানথ্রাক্স জীবাণু মানুষের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত করতে পারে এবং আক্রান্ত অঙ্গ অনুযায়ী রোগের ধরনও বিভিন্ন রকম হয়। যেমন :
ত্বকের (cuteneous) অ্যানথ্রাক্স : অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু অথবা এনথ্রাক্স স্পোর দ্বারা দূষিত পশুর পশম, চুল বা চামড়ার সংস্পর্শে এলে অ্যানথ্রাক্স স্পোর মানুষের ত্বকের অতিসূক্ষ্ম ক্ষত দিয়েও প্রবেশ করতে পারে। এ অবস্থায় সাধারণত ১ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ত্বকের ক্ষত তৈরি হয়। ক্ষত দুই হাতে মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ঘাড় এবং মাথাও আক্রান্ত হতে পারে। ত্বকে ধীরে ধীরে ঘা তৈরি হয় যা ২-৩ সেমি আয়তনের হয়ে থাকে এবং ঘা এর চারদিকের ত্বক একটু উঁচু হয়ে থাকে। ক্ষতে চুলকানি থাকে তবে ব্যথা থাকে না।
শ্বসনতন্ত্রির (inhalational) অ্যানথ্রাক্স : অ্যানথ্রাক্স জীবাণুর স্পোর যদি শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। শুরুর দিকে হালকা জ্বর, খুশখুশে কাশি এবং বুকে অল্প ব্যথা হয়। পরবর্তীতে তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট, শরীর নীল হয়ে যাওয়া, শরীর বেশি ঘেমে যাওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, বুকে ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।

মুখবিবরীয় (oropharyngeal) অ্যানথ্রাক্স : অ্যানথ্রাক্স স্পোর খেলে এ অবস্থা দেখা দেয়। গলাব্যথা, খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া এর লক্ষণ। এক্ষেত্রে মুখের তালু বা মুখবিবরে (pharynx) ক্ষত দেখা দেয়।
পরিপাকতন্ত্রের (Intestinal) অ্যানথ্রাক্স : এটাও অ্যানথ্রাক্স স্পোর খেলে দেখা দেয়। বমি অথবা বমিবমি ভাব, অস্বস্তি, পেটব্যথা, রক্তবমি, বারবার রক্তযুক্ত পায়খানা হওয়ার সঙ্গে জ্বর হয়।
রোগের পরিণতি : বেশির ভাগ এনথ্রাক্স ত্বকের এনথ্রাক্স, যা চিকিৎসা করলে, এমনকি চিকিৎসা না করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভালো হয়ে যায়। অন্যান্য ধরনের এনথ্রাক্সের পরিণতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খারাপ। এর মধ্যে সেপটিসেমিক এনথ্রাক্স এবং অ্যানথ্রাক্স মেনিনজাইটিস এ মৃত্যুহার খুবই বেশি। শ্বসনতন্ত্রের অ্যানথ্রাক্স চিকিৎসা করলেও মৃত্যুহার প্রায় ৪৫%। পরিপাকতন্ত্রের অ্যানথ্রাক্স নির্ণয় করা খুব কঠিন এবং এতে মৃত্যহার ২০-৬০%।
রোগ নির্ণয় : ত্বকের অ্যানথ্রাক্স রোগীর গবাদিপশুর সংস্পর্শে আসার ইতিহাস এবং ক্ষতের ধরন দেখেই বোঝা যায়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্ষত থেকে রস নিয়ে নির্দিষ্ট উপায়ে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পরীক্ষা করলে জীবাণু দেখা যায়। শ্বাসতন্ত্রের রোগ সন্দেহ করলে বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান করা হয়। সেপটিসেমিক অ্যানথ্রাক্স নির্ণয় করার জন্য ব্লাড কালচার করা হয়। মেইনজাইটিস সন্দেহ হলে লাম্বার পাংকচার করে সেরিব্রোস্পাইনাল রস পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া ELISA নামক পরীক্ষাও এ রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
চিকিৎসা : ত্বকের সংক্রমণের ক্ষেত্রে রোগীকে বহিঃবিভাগেই চিকিৎসা দেওয়া যায়। অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হবে। বিভিন্ন রকমের এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে অ্যানথ্রাক্স রোগের চিকিৎসায় পেনিসিলিনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। কুইনোলন গ্রুপের এন্টিবায়োটিক (যেমন : সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, গ্যাটিফ্লক্সাসিন), ডক্সিসাইক্লিন, এমক্সিসিলিন, এম্পিসিলিন, ক্লোরামফেনিকল ইত্যাদি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
(সংক্ষেপিত) মূলঃ ডা. এবিএম. কামরুল হাসান, সহকারী সার্জন, পাইস্কা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ধনবাড়ী, টাংগাইল, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৮-০৯-১০
Read More
Powered by Blogger.